Blog for others

Turkey in bangladesh

কাজের বাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থা সংগতিপূর্ণ না হওয়ায় দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতিবছরই উচ্চশিক্ষা নিয়ে শ্রমবাজারে আসা শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেক বেকার থাকছেন অথবা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন না।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ২০১২ সালের এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। কিন্তু কাজ পায় মাত্র সাত লাখ। এর মধ্যে উচ্চশিক্ষিত অর্থাৎ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে যাঁরা শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন, তাঁরাও আছেন। সামগ্রিকভাবে পরিসংখ্যানগুলো বলছে, এঁদের মধ্যে কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে কিছু করার চেষ্টা করেন। আবার অনেকে নিজের যোগ্যতার চেয়ে কম মানের কাজ করতে বাধ্য হন।

……………………………………………………………………………………………..

কেনো আমি টার্কি পালন করবো ? :
১. বড়সর এই পাখিটির বৃদ্ধি কত জানেন কি ? মাত্র ২০ সপ্তাহে একটি টার্কি মোরগের ওজন হয় ৭ – ৮ কেজি, আর টার্কি মুরগির ওজন হয় ৪ – ৫ কেজি।
২. প্রাপ্ত বয়স্ক পুরষ টার্কি হয় ১০ কেজি , আর স্ত্রী টার্কি হয় ৮ কেজি ওজনের অধিকারী।
৩. অন্যান্য যেকোনো গৃহপালিত পাখির চেয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশিবলে উচ্চমাত্রায় ন্টিবায়টিক এর প্রয়োজন হয়্না , ওষুধ খরচ কম হয় , অন্যদিকে পাওয়া যায় নিরাপদ মাংসের যোগান।
৪. আরেকটি মজার তথ্য দেই। টার্কি জাতে পাখি হলেও স্বভাবে কিন্তু ছাগলের চেয়ে কম যায়না। এরা মোট খাবারের ৬০% ভাগ ই খায় ঘাস , লতা পাতা , শাখ সবজি আর বাকি ৪০ % ভাগ হলো দানাদার খাদ্য। যেমন – ধান, গম, চাল ইত্যাদি। এ কারণে খাদ্য খরচ ও অনেক কম হয়।
৫. একটি পরিবার শুধুমাত্র তাদের উচ্ছিস্ট খাবার , শাক সবজির উচ্ছিস্ট ইত্যাদির মাধ্যমেই টার্কি পালন করে সারা বছরের মাংসের চাহিদার অনেকটাই পূরণ করতে পারবে।
৬. খুব সহজেই পালন করা যায়, আমাদের দেশের আবহাওয়া টার্কি পালনের জন্য উপযোগী।গ্রাম অঞ্চলে দেশী মুরগির মতো মুক্ত অবস্থায় পালন করা যায় আবার শহুরে বাসা বাড়িতে ব্যাকুনির ল এক কোনায় বা ছাদে খাচায় বা নেটের মধ্যে সহজেই লালন পালন করা যায়।সর্বপরি দেখতে সুন্দর পেখম তোলা এই পাখিটি বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
৭. প্রিয় খামারি ভাইদের বলছি – আরো একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় যে , আপনারা একটি সমস্যায় প্রায়ই পড়েন মুরগি পালনের ক্ষেত্রে।তা হলো বড় বড় হ্যাচারি মালিকরা একজোট হয়ে হুট করে মুরগির বাচ্চার দাম বাড়িয়ে দেয়।আর এই কারণেই লোকসান দিয়ে হাজার হাজার খামারি আজ পথে বসেছে। তাছাড়া এরসঙ্গে আছে আবার নিম্ন মানের দুর্বল বাচ্চা সরবরাহ , উচ্চ মৃত্যুহার ইত্যাদি।
অপরদিকে , একটি টার্কি মুরগি বছরে ৮০ থেকে ১০০ টি ডিম দেয়।এ দিয়ে আপনি নিজস্ব চাহিদা মাফিক বাচ্চা নিজেই উত্পাদন করতে পারবেন।
এভাবে আপনারা নিজেরা যেমন লাভবান হবেন , তেমনি স্বল্পমূল্যের বিনিময়ে ভক্তগণ পাবেন স্বুসাধু ও নিরাপদ মাংসের যোগান।বাংলাদেশের মাংসের বাজারে টার্কির আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

………………………………………………………………………………………………
টার্কির (Turkey) প্রজাতিগুলি:
১) ব্রড ব্রেস্টেড ব্রোঞ্জ
পালকের মূল রং কালো, তামাটে নয়৷ মাদী পাখির বুকের পালকের রং কালো, ও তার ডগাগুলি সাদা হয়, যার দরুন মাত্র ১২ সপ্তাহ বয়সেই লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায়৷
২) ব্রড ব্রেস্টেড হোয়াইট:
এটি ব্রড ব্রেস্টেড ব্রোঞ্জ ও হোয়াইট হল্যাণ্ডের সংকর যার পালকগুলি সাদা হয়৷ সাদা পালকের টার্কির গরম সহ্য করার ক্ষমতা বেশি ও সেই সঙ্গে পালক ছাড়ানোর পরে এদের পরিষ্কার ও ভাল দেখায়৷
৩) বেল্টসভিল স্মল হোয়াইট:
এটি রং ও আকারে ব্রড ব্রেস্টেড হোয়াইট প্রজাতির খুবই কাছাকাছি তবে আয়তনে ছোট৷ ভারী প্রজাতিগুলির তুলনায় এদের ডিম দেওয়া, উর্বরতা ও ডিম ফোটার পরিমাণ বেশী হয় এবং ডিমে তা দেওয়ার ঝোঁক কম হয়৷
৪) নন্দনম টার্কি
নন্দনম টার্কি – প্রজাতিটি কালো দেশী প্রজাতি ও বিদেশী বেল্টসভিল স্মল হোয়াইট প্রজাতির শংকর৷

টার্কির (Turkey) খাবার দেওয়ার পদ্ধতিগুলি :
•মুরগীর তুলনায় টার্কির শক্তি, প্রোটিন ও খনিজের প্রয়োজন বেশি৷
•যেহেতু পুরুষ ও মাদীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শক্তির(এনার্জি) পরিমাণ আলাদা, তাই ভাল ফল পাওয়ার জন্য তাদের পৃথক ভাবে পালন করতে হবে৷
•খাবার ফীডারে দিতে হবে, মাটিতে নয়৷
•যখনই এক রকম খাবার থেকে অন্য খাবারে পরিবর্তন করা হবে তা যেন আস্তে আস্তে করা হয়৷
•টার্কিদের সব সময় অবিরাম পরিষ্কার জলের জোগান দরকার হয়৷
•গ্রীষ্মকালে আরও বেশী সংখ্যায় ওয়াটারার রাখুন৷
•গ্রীষ্মকালে দিনের অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা সময়ে টার্কিদের খাবার দিন৷
•পায়ের দুর্বলতা এড়াতে দিনে 30-40 গ্রা. হারে ঝিনুকের খোলার গুঁড়ো দিন ৷
সবুজ খাদ্য:
নিবিড় পদ্ধতিতে, ড্রাই ম্যাশ হিসাবে মোট খাদ্যের 50% পর্যন্ত সবুজ খাবার দেওয়া যায়৷ সব বয়সের টার্কির জন্য টাটকা লুসার্ন প্রথম শ্রেণীর সবুজ খাদ্য৷ এছাড়া খাবারের খরচ কম করার জন্য ডেসম্যান্থাস ও স্টাইলো কুচি করে টার্কিদের খাওয়ান যেতে পারে৷
……………………………………………………………………………………………

মাংস উৎপাদনের জন্য টার্কির সাতটি আদর্শ জাত রয়েছে। পাখিজাতীয় মাংস উৎসের মধ্যে মুরগি, হাঁস, তিতির, কোয়েলের পর টার্কি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। টার্কির মাংস অন্যান্য পাখির মাংস থেকে কম চর্বিযুক্ত, তাই অন্যান্য পাখির চেয়ে টার্কির মাংস অধিক পুষ্টিকর।পশ্চিমা দেশগুলোতে টার্কি অধিক জনপ্রিয়। সবচেয়ে বেশি টার্কি পালন করা হয় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্যসহ প্রভৃতি দেশে। আমাদের দেশের অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশে যে কোন পশু পাখি পালন অন্য দেশের তুলনায় সহজ , আবার কিছু প্রাণী আছে যারা দ্রুত পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে , আর টার্কি পাখি সে রকম একটি সহনশীল জাত , যে কোন পরিবেশ দ্রুত সে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*